কাজী নুরুল আফছার:
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, কটূক্তি ও অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ, শালীনতা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থী সমাজ একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রকে গড়ে তোলে। কিন্তু যখন কোনো বিষয়ে ক্ষোভ বা হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে অশালীন ভাষা, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়, তখন তা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং পুরো শিক্ষার্থী সমাজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করে।
সমালোচনা অবশ্যই করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিপূর্ণ এবং ভদ্র ভাষায়। রাষ্ট্রের কোনো নীতি, সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু ব্যক্তি-অপমান, বিদ্বেষ ছড়ানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৌজন্যমূলক আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয় এবং সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের মতামত প্রকাশের সহজ সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এই সুযোগের অপব্যবহার করলে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র-সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই প্রতিটি শব্দ ব্যবহারের আগে আমাদের ভাবা উচিত-এটি কি সত্য, শালীন এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক?
অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষা, বিদ্যালয় থেকে শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজ থেকে পারস্পরিক সম্মান শেখানো হলে শিক্ষার্থীরা আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা অসন্তোষ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যার সমাধান কখনোই কটূক্তি বা অপমানের মাধ্যমে আসে না। বরং শান্তিপূর্ণ, যুক্তিসংগত এবং সম্মানজনক উপায়ে দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করাই একজন সচেতন শিক্ষার্থীর পরিচয়।
শিক্ষা কেবল ভালো ফলাফল অর্জনের নাম নয়; শিক্ষা মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও শিষ্টাচার গড়ে তোলে। তাই আসুন, আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করি, একই সঙ্গে ভিন্নমতের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকি। সুস্থ চিন্তা, শালীন ভাষা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চাই একটি সুন্দর, সভ্য ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |