| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ফুলগাজীর জগতপুরে নদী পেরোতে সাঁকোই ভরসা

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 04-05-2026 ইং
  • 349 বার পঠিত
ফুলগাজীর জগতপুরে নদী পেরোতে সাঁকোই ভরসা
ছবির ক্যাপশন: ফুলগাজীর জগতপুরে নদী পেরোতে সাঁকোই ভরসা


* দুই শতাধিক একর জমি অবহেলায়

* ব্রিজ নির্মাণে জোর দাবি

জুবায়ের আল মুজাহিদ:

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ও কালিরহাট ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের মানুষের জন্য মুহুরি নদী যেন এক দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম। নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে প্রায় ২ শতাধিক একর কৃষিজমি ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, কমছে উৎপাদন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর এবং কালিরহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর, এই তিনটি গ্রামে প্রায় এক হাজারেরও বেশি পরিবারের বসবাস। তবে জমির অবস্থান বিভক্ত, জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুরের বহু পরিবারের জমি নদীর ওপারে ধর্মপুরে, আবার ধর্মপুরের অনেকের জমি এপারে। ধর্মপুরে প্রায় ১৫০ একর এবং জগতপুরে প্রায় ৭০ একর জমি রয়েছে।

কিন্তু এই জমিতে চাষাবাদ করতে হলে কৃষকদের প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, পানির স্রোতে অনেক সময় সাঁকো ডুবে যায়, ফলে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “নদীর ওপারে আমাদের অনেক জমি, কিন্তু ব্রিজ না থাকায় ঠিকমতো চাষ করতে পারি না। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করছি। এতে ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি কৃষিতেও অনীহা তৈরি হচ্ছে।”

কৃষক কামাল হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই দুর্ভোগ দেখে আসছেন। “আমাদের পূর্বপুরুষরাও কষ্ট করেছে, এখনো আমরা সেই কষ্টই করছি। কাদা আর ঝুঁকির মধ্যে সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়, এটা খুবই বিপজ্জনক,”বলেন তিনি।

কৃষক কবির আহমেদ বলেন, বর্তমানে তারা মরিচ, করলা, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। “কিন্তু নিয়মিত এভাবে সাঁকো পার হয়ে জমিতে যাওয়া খুব কষ্টকর। বর্ষায় কষ্ট দ্বিগুণ হয়। একটা ব্রিজ হলে আমরা অনেক উপকৃত হব। 

ভুট্টা চাষি মুজাহিদ শিপন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

“প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ভুট্টা চাষ করেছি। কিন্তু সময়মতো পরিবহন করতে না পারায় এখন ২০ হাজার টাকাও উঠবে না। সাঁকো দিয়ে ফসল নেওয়া যায় না,”বলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন সানি বলেন, “দুই পাড়ে প্রায় হাজার পরিবার বসবাস করে। প্রতিদিন মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করেছি। আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।”

এলাকাবাসীর মতে, একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। দীর্ঘ ৪০ বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে একটি কার্যকর সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group