১৬ মামলায় পরাজিত হয়ে এবার চাঁদা দাবীর অভিযোগ ভুক্তভোগীদের
শহর প্রতিনিধি:
ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি এলাকার শফিকুর রহমান সড়কের শরীফ মঞ্জিল ও আশপাশের ভূমির মালিকানা দাবী করে দায়ের করা ১৬টি মামলায় পরাজিত হয়ে এবার ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী লেডি সুরমা ও তার পরিবারের। ওই টাকা না পেয়ে একেরপর এক ওই এলাকায় তান্ডব চালিয়ে আসছে সুরমা গংরা। গণঅভ্যুত্থানের পর নিজেদেরকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় ভুমি সংস্কার অথবা বাড়ি তৈরী করতে চাইলেও দিতে হয় সুরমা বাহিনীকে চাঁদা। চাঁদা না দিলে শুরু হয় নানা কাল্পনিক ঘটনা তৈরী করে হয়রানী। ওই এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে লেডি সুরমা বাহিনীর হয়রানীতে ভুক্তভোগী হলেও মানসম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।
এদিকে সম্প্রতি ফেনী মডেল থানায় সুরমা বাহিনীর হয়রানীতে অতিষ্ঠ হওয়ার ঘটনায় একটি এজহার ও একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ওই অভিযোগ পত্রে উঠে আসে সুরমা বাহিনীর তান্ডবের খন্ড অংশ।
লেডি সুরমা বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগী ঈশা রুহুল্লাহ শরিফী ফেনী মডেল থানায় ২৯ মার্চ একটি এজহার দায়ের করেছেন। তিনি ওই এজহারে উল্লেখ করেন, তার মালিকীয় শরীফ মঞ্জিলটি দীর্ঘদিন যাবত লেডি সুরমা বাহিনী দখল করে রেখেছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে ওই বাড়িতে আমাদেরকে থাকতে দেবেনা বলে প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে এবং ২৯ মার্চ আয়োজিত সালিশী বৈঠকে সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দের সামনে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের উপর লেডি সুমার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের হামলার ভিডিও সবাই দেখেছে।
ভুক্তভোগী বিবি রহিমা বলেন, আমাদের কাছে জায়গা পাবে দাবী করে সুরমা বাহিনী অনেকগুলো মামলা করেছে। ইতোমধ্যে ১৬টি মামলায় তারা পরাজিত হয়েছে। মিথ্যা মামলাগুলো দীর্ঘদিন চালিয়ে রায় পর্যন্ত আসতে আমরা নানাভাবে হয়রানী ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। মামলায় হেরে এখন তারা মামলার খরচ বাবত চাঁদা দাবী করছে। দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে হয়রানী করে যাচ্ছে। এরআগেও আমরা হয়রানীর ভয়ে তাদেরকে নানা সময় চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছি। আমরা হয়রানী থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি চাই। লেডি সুরমা বাহিনীর বিচার চাই।
আশরাফ উদ্দিন ভূঞা নামের মনির উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা এক ভুক্তভোগী ২৯ মার্চ ফেনী মডেল থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন আবদুল খালেকের ওয়ারিশগনের সাথে আমাদের ভুমি বিরোধ চলে আসছে। ২৬ তারিখ সকালে আমাদের দখলীয় জমিতে মাটি শ্রমিকরা মাটি কাটছে শুনে তাদের বাধা দিলে সেখানে আবদুল খালেকের ওয়ারিশ আরিফ, মফিজ, সুরমা, ছকিনা ও সৈয়দ হোসেন সহ কয়েকজন আমাকে মারধর করে হত্যা করার চেষ্টা করে। বিষয়টি আমি স্থানীয় মান্যগন্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে তারা ২৮ তারিখ বিকালে সালিশী বৈঠকের বসার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত সময়ে গণ্যমান্যরা সালিশী বৈঠকে বসলে লেডি সুরমার নেতৃত্বে খালেকের ওয়ারিশরা সবার সামনে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে ওই সালিশে উপস্থিত থাকা জেলা যুবদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন খোন্দকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মজিবুর রহমান, সাবেক কমিশনার ওমর ফারুক বেলালসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ হতবাক হয়ে উঠেন। ওই ঘটনার সময়ে লেডি সুরমার অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রতিপক্ষকে দৌড়ে হত্যা চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, পাঠানবাড়ি এলাকায় সালিশী বৈঠকে অপ্রীতিকর ঘটনায় একটি এজহার ও একটি সাধারণ ডায়েরী ভুক্তভোগীরা জমা দিয়েছেন। বিষয়টিকে পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে। অপরাধীদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
সালিশী বৈঠকে উপস্থিত থাকা জেলা যুবদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন খোন্দকার বলেন, কিছুদিন যাবত এলাকায় কিছু দুষ্কৃতিকারী নিজেদেরকে বিএনপি লোক পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে শুনে ওই সালিশে আমরা উপস্থিত হই। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে আমরা ফেনীতে কোন দুষ্কৃতিকারীকে বরদাস্ত করবোনা।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাঈদুর রহমান জুয়েল বলেন, পাঠানবাড়ি এলাকায় দুষ্কৃতিকারী এই পরিবার মূলত বিএনপির কেউ নয়। তারা বিএনপির নাম বিক্রি করে অপকর্ম করে এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে রেখেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা অপকর্মকারীদের বিচার চাই।
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুক ভূঞা বেলাল বলেন, সালিশী বৈঠক চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর এভাবে অশ্লিলগালাগালি করে হামলার ঘটনায় আমরা হতবাক। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |