আজিজ আল ফয়সাল ;
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে ফেনী পৌরসভার তুলনায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোট প্রদানের হার বেশি ছিলো। শহরের বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ভোটের হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের নিচে থাকলেও গ্রামের কেন্দ্রগুলোতে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ভোট কাষ্টিং হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পতিত সরকারের পদপদবীতে থাকা নেতারা শহরের সমর্থকদের ভোট দিতে বারণ করায় কাষ্টিং ভোট কম হয়েছে। কিন্তুু গ্রামে আওয়ামীলীগের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর করা সম্ভব না হওয়ায় অতীতের তুলনায় ভোট প্রদানের হারে আস্ফালন দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফেনী-২ আসনে মোট ১৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী পৌরসভায় ৩৫টি এবং সদর উপজেলায় ১১১টি কেন্দ্র। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১ জন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার ১০০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ফেনী-২ আসনের ভোট বিশ্লেষনে দেখা যায়, দেশজুড়ে উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হলেও ফেনী পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্রে তার আলামত দেখা মেলেনি। বিশেষ করে ফেনী শহরের আওয়ামীলীগ উদ্যোশিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট প্রদানের হার ছিলো সর্ব নিম্ন। তন্মধ্যে সব চেয়ে কম ভোট পড়েছে ফেনী পাইলট আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে ২ হাজার ৪৬৮ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৪৬৯ জন ভোট দেন, যা প্রায় ১৯ শতাংশ। এছাড়া ফেনী পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৬.৯ শতাংশ, ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮ শতাংশ, ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮.৬ শতাংশ, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ৪০ শতাংশ, সহদেবপুর খাইরুল ইসহাক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪১ শতাংশ এবং মধ্যম চাড়িপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়।
পৌরসভার ৩৫টি কেন্দ্রে মোট ৪৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০৪টি।
অন্যদিকে ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে ভোট উৎসব ছিলো দৃশ্যমান। দিনশেষে ভোটদানের হারও ছিলো চমৎকার। ইউনিয়নপর্যায়ে পদত্তভোটের হার ছিলো ৫৫ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে। সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে চরলালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এছাড়াও দৌলতপুর চৌধুরী পাড়া আল হুমাইয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৬২ শতাংশ, পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২.৮ শতাংশ, যাত্রাসিদ্ধি পূর্ব গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৯.৩ শতাংশ, কেরনীয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৮.৩ শতাংশ, শেখ মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৮.১ শতাংশ, ফাজিলপুর রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭.৯ শতাংশ, শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭.৭ শতাংশ, মাইজবাড়িয়া টংগিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭.৬ শতাংশ এবং ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৬.২ শতাংশ ভোট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা একরামুল হকসহ আরও ৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |