লিয়াকত হোসেন খোকন:
তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তাঁর ছেলে ছিলেন একসময় শিক্ষামন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই উপাচার্যের নাম ড. মোহাম্মদ ওসমান গনি, তাঁর কৃতি সন্তানের নাম ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুক।
ড. মোহাম্মদ ওসমান গনি ছিলেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, আবার তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ১৯৭৯ সালে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ড, মোহাম্মদ ওসমান গনি।
শিক্ষা ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান গবেষণায় অবদান রাখায় ১৯৫৯ সালে ‘সিতারা-ই-কায়েদ-ই-আজম’ খেতাব পান ড, মোহাম্মদ ওসমান গনি।
১৯৬৪ সালে ‘সিতারা-ই-পাকিস্তান’ খেতাব পান।
১৯৬৭ সালে আমেরিকার নর্দার্ন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি.এসসি ডিগ্রি প্রদান করে। গুরুদয়াল কলেজের একটি ছাত্রাবাসের নাম রাখা হয়েছে "ড. এম ওসমান গণি ছাত্রাবাস"। অধ্যাপক মোহাম্মদ ওসমান গণি ছিলেন একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী।
১৯৬১ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ উপাচার্য হিসেবে ১৯৬৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৬৯ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। মোহাম্মদ ওসমান গণির জন্ম ১৯১২ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাটিয়াপাড়া গ্রামে। তিনি পরলোকগমন করেন ১৯৮৯ সালের ২১ জুলাই ঢাকাতে।
ওসমান গণির পিতার নাম হাজী মোহাম্মদ দরবার আলী এবং মাতার নাম মকবুলা বেগম।
শৈশবে গ্রামের বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৩৫ সালে প্রথম ভারতীয় মুসলমান হিসেবে উক্ত বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৩৮ সালে ওসমান গনি কৃষি রসায়ন বিষয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।
ওসমান গণি ১৯৪০ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৯৪৫-১৯৪৯ সালে তিনি বাংলার সরকারি কৃষি রসায়নবিদ এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকার কৃষি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৯ সালে তিনি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান এবং মৃত্তিকা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হন।
পরে ভূ-বিজ্ঞান বিভাগেরও প্রধান হয়েছিলেন। ১৯৬১-১৯৬৩ পর্যন্ত ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৭৯ সালে স্বতন্ত্র পদে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
ড. মোহাম্মদ ওসমান গনির দাম্পত্য সঙ্গী ছিলেন মিসেস শামসুন নাহার গনি। তাঁদের সন্তানের নাম ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুক-তিনি একসময় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুকের জন্ম ১৯৪০ সালের ১৮ জুলাই। ১৯৫৬ সালে সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুলে থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ সালে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্মান ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৩ সালে মোহাম্মদ ওসমান ফারুক মার্কিন সরকারের অধীন বেসামরিক বৈদেশিক সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা ইউএসএইড ফেলোশিপ প্রোগ্রাম-এ অংশ নেন। ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র-টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুক ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে হিসেবে যোগ দেন। তিনি সেখানে অপারেশন ও মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অতঃপর তিনি মন্ত্রীসভায় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |