| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

স্মরণে সন্ধানে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 30-03-2026 ইং
  • 786 বার পঠিত
স্মরণে সন্ধানে শহীদ বুদ্ধিজীবী   ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী
ছবির ক্যাপশন: স্মরণে সন্ধানে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী


ইমরান ইমন:

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর একেবারেই ঊষালগ্নে সামরিক বাহিনীর যে সকল অফিসার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে শহীদ হন  তাদের মধ্যে ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী একজন। পাকহানাদার বাহিনী একাত্তরের ২৫শে মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট‘ নামে দেশজুড়ে যে গণহত্যা শুরু করে তা থেকে বাদ যায়নি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টও। মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শুরুতেই পাকহানাদার বাহিনী কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে চালায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। 

২৫শে মার্চ রাত থেকে অন্যান্য জায়গার মতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেনানিবাসগুলো দখলে নেয়। কুমিল্লা সেনানিবাসও তা থেকে বাদ যায়নি। সেখানে বাঙালি সৈনিক-সিপাহী, পুলিশ লাইনসে বাঙালি পুলিশ অফিসারসহ সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থনকারীদের তারা টার্গেট করে। কুমিল্লা সেনানিবাসে এক পর্যায়ে ২৯ মার্চ বাঙালি অফিসার ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থনকারীদের ওপর পাকহানাদারা বিরূপ আচরণ শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ও বাঙালি অফিসারদের মধ্যে শুরু হয় পারস্পরিক প্রতিরোধ যুদ্ধ। সেখানে হতাহত বাঙালি অফিসারদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থনকারী অনেক সৈনিক, পুলিশ অফিসার ও সিপাহীকে তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন।

এসব কিছুই পাকহানাদার বাহিনী নজরদারির মধ্যে রাখছিল। ৩০ মার্চ ১৯৭১। ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীর জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নরসুন্দর রমণী মোহন শীলের বর্ণনায় ওঠে আসে পাকহানাদার বাহিনীর সেদিনের নৃশংসতা। ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীসহ ডা. লে.  কর্নেল নূরুল আবসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ডা. ক্যাপ্টেন একেএম ফারুক, ডা. সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট এজেডএম খন্দকার নুরুল ইমাম তুর্কীকে

২৪ এসএফ মেসে সেদিন অর্থাৎ ৩০ মার্চ সকাল থেকে বন্দি করে রাখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এরপর বিকেল বেলা ব্রিগেড অফিস সংলগ্ন পাহাড়ের মাঝখানে গর্তের পাশে দাঁড় করিয়ে সবাইকে ব্রাশফায়ার করে নৃশংসভাবে মেরে ফেলে বর্বর পাকহানাদার বাহিনী।

নৃশংস বর্বর পাকহানাদার বাহিনী শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা সেখানে গর্ত করে সবাইকে একসঙ্গে মাটিচাপা দিয়ে বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একাত্তরের ডিসেম্বরের একেবারে শেষদিকে তাদের লাশ শনাক্ত করা হয়। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) সামনে ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীকে সমাহিত করা হয় এবং সেখানেই তার সমাধিসৌধ রয়েছে। 

মৃত্যুর আগে সবশেষ ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীর সঙ্গে স্মৃতি প্রসঙ্গে তার স্ত্রী রশিদা আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন: “২৯ মার্চ ১৯৭১। তোমাকে হারানোর পূর্বদিন। তখন আমরা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের কোয়ার্টারে। প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছে। বিকেলবেলা এক ফাঁকে বাসার সামনে চা খেতে বসেছি, হঠাৎ একটা গোলাপ গাছের দিকে তোমার চোখ পড়লো। গাছটা শুকিয়ে গেছে, খুবই ম্রিয়মাণ। বাগানে মালিই পানি দিয়ে থাকে। তোমাকে কখনো দিতে দেখিনি। তখন কেন যেন তুমি নিজেই পানি আনতে ঘরে চলে গেলে। আমার নিষেধ শুনলে না। বালতি দিয়ে পানি এনে গোলাপ গাছটার গোড়ায় ঢেলে দিলে। বাঁচাতে চেয়েছো সবকিছু। কিন্তু নিজেই বাঁচতে পারলে না।

গোলাগুলির শব্দে রাতে আমরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারলাম না।

৩০ মার্চ ১৯৭১। তুমি ভোরে উঠে গেলে। আমাকে উঠতে দিলে না। শীতের সকাল। নিজ হাতে পানি চুলায় গরম করতে দিলে। নিজের জন্য এক পাতিল। আমার জন্য আরেকটা। পরিচারকরা ঘুমাচ্ছে। ওদের ঘুমও ভাঙালে না। নিজে গোসল সেরে আমাকে ডেকে তুললে, ‘এই, নাস্তা করতে এসো।’ আমি বললাম, ‘নাস্তা তো তৈরি হয়নি!’ তুমি বললে, ‘টেবিলে আসো না দেখি।’ আমি টেবিলে গিয়ে দেখি নাস্তা টেবিলে পরিবেশন করা। তুমিই নাস্তা তৈরি করেছ। সেমাই রেঁধেছো, ডিম রেঁধেছো। তৃপ্তি করে খেলাম।

তুমি আমাকে গোসলে যেতে বললে। আমি বললাম, পরে করবো। তুমি বললে, ‘না, আমি চলে গেলে তুমি দেরি করে ফেলবে।’ আমাকে ঠেলে গোসলে পাঠালে।

ইউনিফর্ম পরে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরুলে। নিজের মোটর সাইকেলে গিয়ে বসলে। কিন্তু সাথে সাথেই আবার ঘরে ফেরত এলে। বললে, ‘আজকে একদম ভালো লাগছে না। কেমন যেন লাগছে। রুবিনাকে একটু নিয়ে এসো তো।‘ রুবিনা আমাদের ছোটমেয়ে। মাত্র এক মাস বয়স। কম্বল গায়ে গভীর ঘুমে। আমি কম্বলসহই ওকে এনে তোমার কোলে দিলাম। তুমি ওকে আদর করলে। তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেলে। অনন্তের পথে। সেটাই যে তোমার অন্তিমযাত্রা তা কে জানত?

৩০ মার্চ সকালে সেই যে তুমি বাসা থেকে ভগ্নমনোরথে বেরিয়ে গেলে; আর ফিরে এলে না।”

ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী ১৯৩৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোলভী আহসান উল্লাহ, মাতার নাম রইওদুন্নেছা। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। একই বছর তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৫ সালের ১৬ জুন পাকিস্তান আর্মি মেডিকেল কোরে যোগদান করেন। বদিউল আলম চৌধুরী যশোর ক্যান্টনমেন্ট, পাকিস্তানের খারিয়া ক্যান্টনমেন্ট ও লাহোর ক্যান্টনমেন্ট, চায়নার গিলগিট ক্যান্টনমেন্ট ও সর্বশেষ মৃত্যু অবধি তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে চাকরি করেন। তিনি ১৯৭০ সালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সিনিয়র ক্যাপ্টেন (সেকেন্ড ইন কমান্ড) হিসেবে ৪০ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স (বর্তমানে ৩১ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স) হিসেবে যোগদান করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী রশিদা আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৬৫ সালের ১৮ এপ্রিল। তাদের পরিবারে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বড় মেয়ের নাম দিলরুবা আলম চৌধুরী, ডাকনাম মালা। মুক্তিযুদ্ধের সময় দিলরুবা মালার বয়স ছিল দুই বছর। তার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে: হৃদিতা ও সূচিতা। ছোট মেয়ের নাম রুবিনা আলম চৌধুরী, ডাকনাম ইলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় রুবিনা ইলার বয়স ছিল মাত্র একমাস। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে পেশাগত জীবনে ডাক্তার হয়েছেন। দিলরুবা আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ছিলেন। কিন্তু সাংসারিক এক ট্র্যাজেডির কারণে তিনি এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে আর ডাক্তার হতে পারেননি। কিন্তু সে স্বপ্ন ক্ষয়ে যায়নি, দিলরুবার বড় মেয়ে হৃদিতা এখন ডাক্তার। তার জন্য শুভকামনা নিরন্তর।

এ দম্পতির বড় মেয়ে দিলরুবা মালা ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান। বর্তমানে বদিউল আলম চৌধুরীর স্ত্রী রশিদা আলম চৌধুরীও শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার স্বামী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে রাষ্ট্রীয় তালিকায় থাকলেও তিনি কোন ধরনের সহায়তা কিংবা অনুদান পাননি। অথচ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটে ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে গেজেটভুক্ত, যার গেজেট নম্বর ৯৬। অন্যান্য শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মতো ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীও যাতে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পান, সেটার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সম্প্রতি তার গ্রামের বাড়ি ছাগলনাইয়ার জয়পুরে গিয়ে দেখা যায়, তার পিতৃক ভিটেবাড়ি অযত্ন অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তার স্বজন ও গ্রামবাসী দাবি জানিয়েছেন, জাতির এই সূর্যসন্তানের স্মৃতি ও সম্মান রক্ষার্থে রাষ্ট্র যাতে কোনো উদ্যোগ নেয়। গ্রামের মানুষ তার মানবিকতার কথা বারবার বলেছেন। তিনি যখন গ্রামে আসতেন তখন বিনামূল্যে মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। শুধু তাই নয়, অনেককে ওষুধপত্রের ব্যবস্থাও করে দিতেন। তাদের ভাষ্যমতে, তিনি আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক ও ভালো মানুষ ছিলেন। এছাড়াও তিনি একজন ভালো ফুটবলারও ছিলেন।

ছাগলনাইয়ার শুভপুর বাজার থেকে গোপাল পর্যন্ত সড়কটি তার নামে অর্থাৎ ‘ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরী সড়ক‘ নামে নামকরণ করা হয়েছে। শুভপুর রাস্তায় মাথায় তার নামে একটি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তা প্রশস্তকরণ অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আশ্বাস দিয়েছে রাস্তার কাজ শেষে তারা সেটি পুনঃনির্মাণ করে দিবে।

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে তার কর্মস্থল ৪০ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স (বর্তমানে ৩১ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স) সড়কটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিএমএ কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ চিকিৎসক স্মৃতিফলকে তার নাম নামাঙ্কিত আছে। তার নিজ জেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে অন্যান্য শহীদের সঙ্গে তার নামও নামাঙ্কিত রয়েছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ফেনীর কৃতীসন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবী হলেও এ শহরের মানুষ তাকে ওভাবে চেনে না, জানে না। এর মূল কারণ হলো: তার নামে শহরে কোনো স্থাপনা নেই, কোনো সড়কের নামকরণ নেই। যেমন রয়েছে শহীদ শহীদুল্লা কায়সারের নামে (এসএসকে রোড) সড়ক, শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হান মিলনায়তন, শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, ড. সেলিম আল দীন মিলনায়তন, শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. এএনএম ফয়জুল মহী, ভাষাশহীদ আব্দুস সালাম স্টেডিয়াম। 

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীর শহরে স্টেশন রোডস্থ একটি বাড়ি রয়েছে। যেখানে বর্তমানে তার স্ত্রী ও নাতনীরা বসবাস করছেন। সে সড়কটি তার নামে নামকরণ করা হলে তিনি আলোচনায় থাকবেন, এ শহরের মানুষ তাকে চিনবে, জানবে। এ প্রজন্ম তার দেশপ্রেম, বীরত্বগাথা ও অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা।

তথ্যসূত্র:

১) শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ, আগামী প্রকাশনী, ২) মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসক তালিকা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), ৩) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (৮ম ও ১৫তম খণ্ড), হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত, ৪) সাক্ষাৎকার: ডা. ক্যাপ্টেন বদিউল আলম চৌধুরীর স্ত্রী রশিদা আলম চৌধুরী, চৌধুরী হৃদিতা হক (নাতনী), পরিবারের সদস্য ও গ্রামের জনসাধারণ।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group