চলতি বছর তরমুজ উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে ফলন কাটার শুরুতেই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি কৃষকদের মাঝে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরী করেছে। (ইনসেটে)
এস এন আবছার:
ফেনীর সোনাগাজীতে তরমুজ চাষে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ হওয়ায় উৎপাদনেও দেখা যাচ্ছে সম্ভাবনার জোয়ার। তবে শেষ সময়ে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত কৃষকদের মাঝে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর তরমুজ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ হেক্টর জমি। কিন্তু সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১শ ৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর তরমুজ চাষ হয়েছিল ৭৫৫ হেক্টর জমিতে, যার তুলনায় চলতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তরমুজ চাষের সঙ্গে সরাসরি প্রায় ৫শত কৃষক যুক্ত থাকলেও জমির মালিক ও শ্রমিকসহ প্রায় ১০ হাজার পরিবার এ খাত থেকে প্রত্যক্ষ উপকারভোগী হচ্ছেন। চলতি বছরে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সে হিসাবে মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬০ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টনে।
প্রতি কেজি তরমুজের গড় মূল্য ২০ টাকা ধরে মোট উৎপাদনের বাজারমূল্য প্রায় ১২১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ অঞ্চলে চাষ হওয়া তরমুজের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলালিংক, গ্লোরি, ব্ল্যাকবেরি, ভিক্টর সুপার, ওশেন সুগার ও স্থানীয় বিভিন্ন জাত।
কৃষি অফিস জানায়, সোনাগাজীর চরাঞ্চলের পতিত জমি এখন তরমুজ চাষের আওতায় আসছে। উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু এবং লাভজনক বাজারমূল্যের কারণে দিন দিন তরমুজ চাষ বাড়ছে। শুধু স্থানীয় কৃষকরাই নয়, পাশের নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কৃষকরাও এখানে এসে সমবায় ভিত্তিতে তরমুজ চাষ করছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে তরমুজ কাটার ঠিক শুরুর মুহূর্তে বৃষ্টিপাত অনেক কৃষকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাইদ রুবেল বলেন, “আমি প্রায় ৯০ একর জমিতে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে,
কিন্তু শেষ সময়ে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে খেতের ক্ষতি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, “সোনাগাজীতে তরমুজ আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে আসছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, “সোনাগাজীর তরমুজ এখন জেলার বাইরেও চাহিদা পাচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সবসময় চাষিদের খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।”
সব মিলিয়ে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তের আবহাওয়াই এখন সোনাগাজীর তরমুজ চাষিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |