শহর প্রতিনিধি :
ফেনীতে জন্মগতভাবে পায়ের পাতা বাঁকা বা ‘মুগুর পা’ (ক্লাবফুট) নিয়ে জন্মানো শিশুদের চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সামাজিক বাধা দূরীকরণে অভিভাবকদের নিয়ে এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফেনীর পাঁচগাছিয়ার তেমুহনীস্থ আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেন্টারে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের অধীনে এই ‘প্যারেন্টস গ্রুপ মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর বাস্তবায়নে এবং মিরাকেলফিট-এর আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় প্রধান ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংস্থাটির ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সুমিত বণিক। সভার কারিগরি বিষয়ে টেকনিক্যাল পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো: সাইফুদ্দীন জুলফিকার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেন্টারের উপদেষ্টা এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু।
সভায় ৯ জন আক্রান্ত শিশুর মোট ১৬ জন অভিভাবক (১২ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ) তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সেশনে উঠে আসে যে, সঠিক চিকিৎসার অভাবে অনেক শিশু স্থায়ী পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হয়, যা কেবল একটি পরিবারের নয় বরং সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ফ্যাসিলিটেটর সুমিত বণিক অভিভাবকদের উৎসাহিত করে বলেন, “একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারা তার মৌলিক অধিকার। ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই হলেন সবচেয়ে বড় অনুঘটক। আপনারা যদি ধৈর্য ধরে নিয়মিত ফলোআপ আর সঠিক নিয়মে বিশেষ জুতা (ব্রেস) ব্যবহার নিশ্চিত করেন, তবে এই শিশুরাই আগামী দিনের সম্পদ হয়ে উঠবে। অন্ধবিশ্বাস বা লোকলজ্জার ভয়ে চিকিৎসা বন্ধ করা মানে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।”
সভায় অভিভাবকরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারগুলোতে আর্থিক অনটন এবং পরিবার ও সমাজের মানুষের অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চারপাশের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য ও কুসংস্কারে অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা অনেক সময় তাদের মনে হতাশার জন্ম দেয়।
মায়েরা আরও উল্লেখ করেন, প্লাস্টার বা কাস্টিং পরবর্তী সময়ে শিশুকে দীর্ঘক্ষণ বিশেষ জুতা (ব্রেস) পরিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু জুতা পরতে না চাইলে বা কান্নাকাটি করলে অনেক সময় পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা চিকিৎসা চালিয়ে উৎসাহ পান না। তবে এই প্রতিকূলতা জয় করে শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে তারা সমাজের সচেতন মহলের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহযোগিতা কামনা করেন। একইসাথে যেকোনো পরিস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে চলার মাধ্যমে সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় ইউনাইটেড পারপাস-এর চলমান সহায়তা কার্যক্রমের তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী ক্লাবফুট নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বল্প মূল্যে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে কাজ করছে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |