নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক জীবনের শেষ সময়টুকু নিজের বীর নিবাসেই কাটাতে চান। কিন্তু ছোট ফেনী নদীর তীব্র ভাঙনে তাঁর সেই স্বপ্ন এখন হুমকির মুখে।
বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে প্রায় ১৪ লাখ ১০ হাজার ২৮২টাকা ব্যয়ে তাঁর জন্য একটি বসতবাড়ি (বীর নিবাস) নির্মাণ করা হয়। এই বাড়িটিই বর্তমানে তাঁর একমাত্র আশ্রয়স্থল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বীর নিবাসটি এখন নদী থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বাড়িটির একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং বাড়ীর অবশিষ্ট অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে করে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সামছুল হক ও তাঁর পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক এর বাড়ীর গাছপালা, মৎস্যপুকুর নদীতে তলিয়ে গেছে। তিনি শেষ আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
অশ্রুসিক্ত চোখে সামছুল হক বলেন, আমার আর কোনো জমি নেই। জীবনের শেষ বয়সে পরিবার নিয়ে এই বীর নিবাসেই থাকতে চাই। যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গাও নেই। যদি এই বাড়িটিও নদীতে চলে যায়, তাহলে আমি কোথায় আশ্রয় নেব?
তিনি নদীর আগ্রাসী ভাঙন থেকে তাঁর শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চরপার্বতী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী হানিফ আনসারী বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বীর নিবাস রক্ষা করতে হলে নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা বালুচর কেটে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি অন্তত দুই হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দিলে এই বীর নিবাসসহ আশপাশের বাড়িঘর, মসজিদ, মক্তব ও মাদ্রাসা ভাঙন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পুরো বীর নিবাসসহ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অত্র এলাকার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম তাঁর সংসদীয় প্যাডে লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে চর পার্বতী ও চর হাজারী ইউনিয়নে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |