স্টার লাইন ডেস্ক:
১৯৭১ সালে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার পায়ে ছিল বাটা কোম্পানির জুতা। মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ হাজার বাটা জুতা প্রদান করেছিলেন তৎকালীন বাটা সু-কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ঔডারল্যান্ড।
শুধু বাটা জুতা প্রদান নয়। ঔডারল্যান্ড ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৮ সালে ঔডারল্যান্ডকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বীকৃতি স্বরূপ বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
ঔডারল্যান্ড ছিলেন একজন অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিক। ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকার টঙ্গীর বাটা সু কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল দিনে ঔডারল্যান্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর গণহত্যা ও নির্যাতন পর্যবেক্ষণ করে তাঁর মনে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দানা বেঁধে উঠে।
ঔডারল্যান্ড দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর একজন গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৫ই মার্চ টঙ্গীতে শ্রমিকদের আন্দোলনে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর গুলিতে ৪ জন নিহত ও ২৫ জন শ্রমিক আহত হয়। যার প্রভাব পড়েছিল টঙ্গীর বাটা সু-কোম্পানীর ফ্যাক্টরীতে।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাক হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে ঔডারল্যান্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা শুরু করেন। ঔডারল্যান্ড প্রথম দিকে পাক বাহিনীর বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের ছবি তুলে বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করতেন।
বহুজাতিক বাটা সু কোম্পানীর পরিচালক হিসেবে ঔডারল্যান্ড নিয়মিত পশ্চিম পাকিস্তানে যাতায়াত করতেন।
যার কারণে তিনি তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী পাক বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন। এমনকি তিনি পাক সামরিক বাহিনী বিভিন্ন মিটিং এ উপস্থিত থাকার সুযোগ পেতেন। যার কারণে তিনি পাক সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন গোপন খবর ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণ করতেন।
ঔডারল্যান্ড একজন গেরিলা প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি প্রচুর মুক্তিযোদ্ধার গেরিলা ট্রেনিং দেন। তাঁর পরিকল্পনায় মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকায় বেশ কয়েকটি গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করেন।
ঔডারল্যান্ড অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, অর্থ, গরম জামাকাপড় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঔডারল্যান্ড বাংলাদেশে বাটা সু কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে বাটা সু কোম্পানী তাঁকে অষ্ট্রেলিয়া বদলি করেন।
২০০১ সালের ১৮ই মে উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ঔডারল্যান্ড অষ্ট্রেলিয়ার পার্থে শহরে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |