দাগনভূঞা প্রতিনিধি
দাগনভূঞা ফাজিলের ঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষার্থে দুর্নীতিবাজ ও অর্থলোভী প্রধান শিক্ষক সাজেদা ইয়াসমিনের অপসারনের দাবিতে গতকাল বুধবার সকালে স্কুলের সামনে স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, এলাকাবাসী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মানববন্ধনে অভিভাবক ও বক্তব্য দেওয়া প্রাক্তন ছাত্র/ ছাত্রীরা বলেন, অতীব দুঃখের বিষয়, বিগত সরকারের আমলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যের সুযোগ নিয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাজেদা ইয়াছমিন গত ০১/০৭/২০২৪ইং সনে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদান করার সাথে পর্যায়ক্রমে সিনিয়র শিক্ষক অর্জুন দাস, দিপংকর মজুমদার, সফিক উল্ল্যাহকে নিয়ে দূর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। দুর্নীতির খাতগুলো হলো ৮ম থেকে ১০ম ও এস এস সি পরীক্ষার্থী জনপ্রতি মাসে ৮শ থেকে ২ হাজার টাকা কোচিং ফিস আদায়, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে উচ্চ হারে জরিমানা, মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে অর্থ আত্মসাৎ, রসিদ বিহীন ৬ষ্ঠ, ৮ম ও ৯ম শ্রেনীর রেজিষ্ট্রেশনের টাকা আদায়, এস এস সি ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা আদায়, শিক্ষা সফর, বার্ষিক মিলাদে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বাজারে কেনা প্রশ্ন দিয়ে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন পরীক্ষা নেওয়া, শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, জেলে বাড়ির শিক্ষার্থীদের সাথে বর্ণবাদী আচারন, প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে না আসার কারনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিদিন মারামারি, দলাদলি, বিদ্যালয় চত্ত্বরে ধূমপান সহ বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েআসছে।
বিগত ২০২৪ ইং নির্বাচনী পরীক্ষায় ৭/৮ বিষয়ে অকৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীরে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যার ফলশ্রুতিতে উক্ত পরীকাক্ষায় ৪৫% ছাত্র-ছাত্রী কৃতকার্য হয়ে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য হারিয়ে উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্নমানের বিদ্যালয়ে পরিনত হয়।
অতি দুঃখের বিষয় একইভাবে ২০২৫ইং সনে ও ৭/৮ বিষয় অকৃতকার্য ছাত্র ছাত্রীদের অর্থের বিনিময়ে ফরম ফিলাপ, নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করা একজন ছাত্র (জাহিদুল হাসান, পিতাঃ জামাল উদ্দিন) কে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের সহযোগিতায় বর্তমানে চলমান ২০২৬ ইং সনের এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ কে দেন।
গত ০৮/০৪/২০২৬ ইং তারিখে প্রহসন মূলক বার্ষিক পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানের নামে সাবেক সভাপতি আহমদ সামির পাশা সাহেবের নিকট থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ও এস এস সি পরীক্ষার্থী ১০০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা হারে গ্রহন করেন। উক্ত টাকা দিয়ে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরে জন্য লক্ষাধিক টাকার গিফট সামগ্রী, লক্ষাধিক টাকা দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরে জন্য দুপুরে ভুরিভোজের আয়োজন করেন, প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব বাসার জন্য ব্যবহার্য্য বাসন কোছন ক্রয় করেন, এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। শিক্ষার্থীদের সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অভুক্ত রেখে পুরুষ্কার প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীদের কাপ, প্লেট উপহার দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ করেন। তাহার এমন কর্মকান্ডে এলাকার সর্বস্তরের জনগনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তারা আরও বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বারক লিপি দিয়েছি, এবং আজকে মানববন্ধন থেকে হুশিয়ার করে বলতে দুর্নীতিবাজ, ভোগ বিলাসী, সেচ্ছাচারী প্রধান শিক্ষকের কার্যক্রম সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে তাকে অপসারন করে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুর্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কতৃপক্ষ গ্রহণ না করে তাহলে আমরা আরো বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলব।
মানববন্ধনের ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাজেদা ইয়াছমিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় টেষ্টে অকৃতকার্য ছাত্র সাহিদ হোসেনকে পরীক্ষায় অংশ করে দেওয়া জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন, তিনি বলেন যে সকল শিক্ষককে ফরম ফিলাবের ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এটা তাদের ভুল। এই জন্য তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ব্যাপারে তিনি অস্বীকার করেন এবং বলেন এই মানববন্ধন আমার বিরুদ্ধে একটা যড়যন্ত্র।
দাগনভূঞা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আজকে ইউএনও মহোদয় আমাকে পাঠিয়েছে, এখানে কিছু ছাত্র ছাত্রী মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে আর বাকি ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাসে ছিল। অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্কুলের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিজোগ পেয়েছি তদন্ত করে যদি অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |