পরশুরামে বাবাকে গরম তেলে দগ্ধ করার মামলায় মেয়ে কারাগারে
- Updated Mar 04 2025
- / 384 Read
পরশুরাম প্রতিনিধি:
ফেনীর পরশুরামে বাবাকে গরম তেলে দগ্ধ করার ঘটনায় বাবার দায়ের করা মামলায় মেয়ে ফাতেমা আক্তার নিহা (১২) কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নিহার মামা জাবেদকেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে দুজনকে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
মামলার এজহারে উল্ল্যেখ করা হয়েছে নুরুন্নবীর মেয়ে নিহা ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে তার মামা ও নানার প্ররোচনায় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘুমন্ত পিতা নুরুন্নবীকে গরম তেল ঢেলে দগ্ধ করেছেন।
এঘটনায় নুরুন্নবী বাদী হয়ে রবিবার সকালে মেয়ে ফাতেমা আক্তার নিহাকে প্রধান আসামী করে প্রথম স্ত্রী আয়েশার পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামীরা হলেন, মেয়ে ফাতেমা আক্তার নিহা, নুরুন্নবীর প্রথম স্ত্রী আয়েশার পিতা মনির আহাম্মদ ও তার দুই ছেলে মো.জাবেদ ও আব্দুর রহিম।
মো, নুরুন্নবী দুই বিয়ে করেন প্রথম স্ত্রী আয়েশা আক্তারকে ছেড়ে দিয়ে রেহানা আক্তারকে বিয়ে করেন। আয়েশা আক্তারের সংসারের দুই মেয়ে ফাতেমা আক্তার নিহা ও লামিয়া আক্তার। ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তারকে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে খুন হন। সে ঘটনায় এখনো কোন কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। লামিয়া হত্যা ঘটনায় পরিকল্পনাকারী হিসাবে মা আয়েশা আক্তারকে জেল হাজতে প্রেরণ করলে দীর্ঘ ছয়মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
নুরুন্নবীর প্রথম সংসারের দুই মেয়ে। ছোট মেয়ে লামিয়া গত বছর নিজ বাড়িতে খুন হন। বড় মেয়ে নিহা বাবার মুখ গরম তেলে দগ্ধ করার অপরাধে বাবার মামলায় রবিবার থেকে কারাগারে।
ফাতেমা আক্তার নিহা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে তার মামা জাবেদের নির্দেশে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে তার বাবাকে ঘুমন্ত অবস্থায় গরম তেলে ঝলসে দিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করছেন।
এদিকে মামলার আসামী ও নুরুন নবীর ভাই আবদুর রহিম বলেন, আমাদের পরিবারের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত নন। ঘটনার সময় আমরা এলাকায় ছিলাম না। আমাদেরকে উদ্দেশ্য মূলকভাবে মামলায় জড়িয়ে ফাঁসানো হয়েছে। লামিয়া হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা দিতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অপরদিকে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে খুন হন নুরুন্নবীর ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার। এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লামিয়া হত্যার কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
লামিয়াকে হত্যা পরিকল্পনাকারী হিসেবে লামিয়ার মা আয়েশা আক্তার কে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করলে ছয় মাস কারা ভোগের পর জামিনে ছাড়া পান লামিয়ার মা আয়েশা আক্তার। তবে লামিয়ার মূল হত্যাকারী কে সেটা এখনো সনাক্ত হয়নি।
নুরুন্নবী দুই সংসার প্রথম স্ত্রী আয়েশা আক্তারের সাথে নুরুন্নবীর বিচ্ছেদ হলে রেহানা আক্তার কে বিয়ে করেন। আয়েশা আক্তার দুই মেয়ে নিহা ও লামিয়া সহ দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানা আক্তার কে নিয়ে সংসার করছিলেন নুরুন্নবী। ওই সংসারে রেহানা আক্তারের আগের সংসারের সন্তানেরাও রয়েছেন।
Share News
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
সর্বাধিক পঠিত