| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ডেঙ্গুর ভয়াল রূপ দেখছে ফেনীবাসী

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 21-09-2026 ইং
  • 7 বার পঠিত
ডেঙ্গুর ভয়াল রূপ দেখছে ফেনীবাসী
ছবির ক্যাপশন: ডেঙ্গুর ভয়াল রূপ দেখছে ফেনীবাসী


নিজস্ব প্রতিনিধি:  

গত কয়েকমাস জুড়ে ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ সংখ্যাটি গতকাল সোমবার পূর্বের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে তার ভয়াল রূপ দেখিয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী জেলা সদর হাসপাতালসহ বেসরকারী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনেই জেলায় রেকর্ড ২৯৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪০ জনে, যা গত বছরের (২০২৫ সাল) মোট আক্রান্তের চেয়ে ৩৩৯ জন বেশি। সেপ্টেম্বর মাসের এই ২১ দিনেই শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা গত বছরের মোট রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।                 

আক্রান্তরা দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়া এবং অসচেতনতার কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। পরিষ্কার স্থির পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, এসির ট্রে, নির্মাণাধীন ভবনের পানি জমা স্থানসহ যেকোনো ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতে এ মশার বংশবিস্তার ঘটে।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ত্বকে লালচে র‌্যাশ এবং অতিরিক্ত দুর্বলতা। তবে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগী বিপদমুক্ত নাও থাকতে পারেন। এ সময় পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অতিরিক্ত ঝিমুনি বা অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এগুলো মারাত্মক ডেঙ্গুর সতর্ক সংকেত।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই রোগীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল খাবার গ্রহণ, জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হয়। নিজ উদ্যোগে ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফেনী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৪০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন। গত আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৫ জন, যা সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই দ্রুত বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে আরও ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় হটস্পট হয়ে উঠেছে ফেনী সদর উপজেলা। মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৩ শতাংশই এই উপজেলার। ৫৪০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৯৪ জনই সদরের, যার মধ্যে কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই শনাক্ত হয়েছেন ২৪১ জন। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে দাগনভূঞায় ৪৫, সোনাগাজীতে ৪৩, ছাগলনাইয়ায় ২৬, পরশুরামে ১৭ এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে জেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩৮৬ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫৮ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮ জন রোগী। এর মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪ জন, সোনাগাজীতে ২ জন এবং পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি আছেন।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা জানান, হাসপাতালে এমনিতেই অন্যান্য রোগীর চাপ অনেক বেশি, তার ওপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে জেলায় ৭ হাজার ৪৬৮টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৫,১১৯টি, পরশুরামে ৩৬১টি, সোনাগাজীতে ১১৮টি, ফুলগাজীতে ৭২টি, দাগনভূঞায় ১৮টি এবং ছাগলনাইয়ায় ১৪টি কিট রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশা নিধনে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group