নোয়াখালী প্রতিনিধি:
অপরিকল্পিতভাবে ও তড়িঘড়ি করে নোয়াখালীর আলোচিত ‘রিকশাওয়ালা বাঁধ’ কেটে দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভাঙন। এতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানির প্রবল স্রোত অব্যাহত থাকলে চর কচ্ছপিয়া (বামনী) স্লুইসগেটসহ চর এলাহী ও চর ফকিরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়বে। এমনকি একসময় এসব এলাকা নদীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নোয়াখালী খালের পুরোনো ও স্বাভাবিক গতিপথ ছিল ‘বইল্যার খেবা’ নামক স্থানে, যা রিকশাওয়ালার দোকানের আরও পশ্চিমে। কিন্তু ওই এলাকায় কিছু দখলদার খালের জায়গা দখল করে মাছের প্রকল্প গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে সেখানে বসতি স্থাপন করান। এর ফলে ধীরে ধীরে নোয়াখালী খালের মূল মুখ বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়ন ও চর এলাহী ইউনিয়নের খালপাড়ের কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খালের প্রবল স্রোতে অনেকের বাড়িঘর ভেসে যায়। তীব্র ভাঙনে খালটি ধীরে ধীরে নদীতে রূপ নেয়। একই সঙ্গে নষ্ট হয় হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
এ অবস্থায় ভাঙনের হাত থেকে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয়রা রিকশাওয়ালার দোকানের কাছে বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে শুরুতে অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেলেও পরবর্তীতে ওই বাঁধের কারণে নতুন করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা অনেকটাই কমে আসে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় ওই বাঁধের কারণে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তখন বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রশাসন ও মাইজদীসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তীব্র বিরোধিতার মুখে সে সময় বাঁধটি কাটা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি ছিল, নোয়াখালী খালের মূল গতিপথ যেখান দিয়ে আগে পানি প্রবাহিত হতো, সেই পথটি দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করা। ওই পথ দিয়ে পানি নদীতে নামার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অতিরিক্ত পানি চর কচ্ছপিয়া স্লুইসগেট দিয়ে ধীরে ধীরে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে জলাবদ্ধতা ও ভাঙন—দুই সমস্যারই সমাধান হতে পারে।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, দখল হয়ে যাওয়া খালের পুরোনো গতিপথ উদ্ধার ও উন্মুক্ত না করেই রিকশাওয়ালার দোকানের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাঁধ কাটার প্রথম দিনেই চর কচ্ছপিয়া স্লুইসগেট ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে এবং পানির প্রবাহ আরও বেড়ে গেলে চর কচ্ছপিয়া স্লুইসগেট ও এর আশপাশের এলাকা মুছাপুর ক্লোজারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। এতে নদীর পানি দ্রুতগতিতে নোয়াখালীর অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তীব্র ভাঙনের কারণে বিস্তীর্ণ জনপদ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী বলছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে দ্রুত নোয়াখালী খালের পুরোনো মুখ—‘বইল্যার খেবা’ এলাকায় খালের পথটি দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। ওই পথ দিয়ে পানি নদীতে নামার ব্যবস্থা করা না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চর এলাহী, চর ফকিরা, ধানশালিক ইউনিয়নসহ নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তাদের দাবি, পানির স্রোত ও ভাঙন আরও বাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বাঁধ কাটার উদ্দেশ্য জলাবদ্ধতা নিরসন হলেও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নতুন করে বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |