বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯  ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ সাবান, ১৪৪০ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনা রহস্যময়!

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-০৪-০৯, ১০:৫৯

স্টাফ

মাঈন উদ্দিন পাটোয়ারী: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গত শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা চালায় চার মুখোশধারী। ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও মুখোশধারীদের নাম পরিচয় চিহ্নিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ছাড়া ঘটনাটি হত্যা চেষ্টা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা তার কোন ক্লু বের হয়নি। ফলে এ  নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা রহস্য। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান। এদিকে রাফির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে। আর এ ঘটনায় সোমবার বিকালে অজ্ঞাত নামা চারজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন ভাই নোমান। এদিকে পুলিশ এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন সকালে আরবী ১ম পর্ব বিষয়ে আলিম পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে নুসরাত জাহান রাফিকে ফুসলিয়ে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যৌন হয়রানির মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় চার মুখোশধারী। এ সময় রাফি মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশধারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তার গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। তখন অগ্নিদগ্ধ ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে পরীক্ষা কেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশ ও মাদরাসার কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। তাকে তাৎক্ষণিক সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর দেখে সেখান থেকে তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থা দেখে ওইদিন বিকেলেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকলেও সোমবার দুপুর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্র জানায়।

এদিকে ঢাকায় নেয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে নুসরাত তার ভাইকে জানায়, তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে পরীক্ষার হল থেকে তাকে ডেকে মাদ্রাসার ছাদে নেয়া হয়। সেখানে আগ থেকে বোরকা পরা চার ব্যক্তি ওঁৎ পেতে ছিল। তারা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দেয়া মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। নুসরাত এতে অস্বীকার করে। তার ভাষ্য মতে, ‘আমি যা বলেছি সত্য বলেছি। মৃত্যু পর্যন্ত এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব। শিক্ষক হয়ে তিনি কিভাবে গায়ে হাত দিলেন...। এ সময় তিনজন হাত ধরে আরেকজন কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’ এতে চিৎকার দিয়ে নুসরাত সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে দৌড় দেয়। হামলাকারীদের একজনের কণ্ঠ তার চেনা বলে সে দাবি করে। তাহলে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নেয়া ওই শিক্ষার্থী ও ঘটনায় জড়িত চার মুখোশধারী কারা এ নিয়ে নানা রহস্য দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সংরক্ষিত পরীক্ষা কেন্দ্রে কিভাবে ঘটনাটি ঘটলো এ নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে দায়িত্বরত কেউ হামলাকারীদের আসা-যাওয়ার সময় দেখেননি বলে তারা জানিয়েছেন।

রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে রাফি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা আগে তাকে ফোন দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করবে কিনা তা জানতে চান মাদ্রাসার শিক্ষক আফসার উদ্দীন। তখন রাফির ভাই প্রত্যাহার করবে না বলে ওই শিক্ষককে জানায়। এরপর বোনকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় নোমান। প্রতিদিন বোনকে কক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দিলেও ঘটনার দিন মূল ফটকেই আটকে দেওয়া হয় তাকে। এর কিছুক্ষণ পরই মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন দেওয়া হয় রাফির শরীরে। পুড়িয়ে হত্যার জন্য পরিকল্পিতভাবেই রাফির শরীরে অধ্যক্ষের অনুসারিরা আগুন দেয় বলে পরিবারের দাবি।

আরেকটি সূত্রের দাবি, রাফি নিজেই পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে ছাদে যায় ও শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। চিৎকার শুনে নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় ছাদ থেকে কেরোসিন বহনকারী পলিথিন, দিয়াশলাই কাঠি ও আগুনে পোড়া বোরখার টুকরো উদ্ধার করা হলেও মুখোশধারীদের কাউকে দেখেনি বলে ওই সূত্র জানায়।
 
এদিকে রাফিকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় চার মুখোশধারী অংশ নিলেও গতকাল এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত তাদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। রবিবার পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েজের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মাদ্রাসার ১১ জন শিক্ষার্থী, দুই শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জবানবন্দি নিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, নুসরাতের অগ্নিকা-ের ঘটনাটি আগের ঘটনার জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা বা হত্যার চেষ্টা হতে পারে। দুটি বিষয় মাথায় রেখেই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।

অপরদিকে এঘটনায় রবিবার সকালে জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি পিকেএম এনামুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলাকে সামায়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সোমবার সকালে নুসরাতের চিকিৎসা বাবদ মাদ্রাসার ফান্ড থেকে তার পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঘটনাটি খুব সতর্কতার সহিত তদন্ত করে মুখোশধারীদের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত: ১৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ অধ্যক্ষের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন পালন করেন।

 

April 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ