বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯  ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলকদ্দ, ১৪৪০ Untitled Document

শীঘ্রই উদ্বোধন হচ্ছে কাজিরবাগ ইকোপার্ক

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-০৬-১৮, ১১:২৬

প্রতিনিধী

বিশেষ প্রতিনিধি: ৯২৮ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট জেলা ফেনী। নানাভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও জেলাটিতে তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে জেলার বাসিন্দাদের। এ আক্ষেপ ঘোচাতে পারে সদর উপজেলার কাজিরবাগে নবনির্মিত ইকোপার্ক। পার্কটি চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও জেলার বিভিন্নস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট আকারে কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠলেও বিনোদনার্থীদের তুলনায় তা অপ্রতুল।

জানা গেছে, কাজিরবাগ গ্রামে সামাজিক বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৪ দশমিক ৭৫ একর জমির ওপর এ ইকোপার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। পার্কটির অবস্থান শহরের অদূরে ফেনী-পরশুরাম সড়কের পাশে। শহর থেকে রিকশা, অটোরিকশা অথবা বাসে করে ১০ থেকে ২০ মিনিটে পার্কটিতে যাওয়া যায়।
সামাজিক বন বিভাগ ফেনী সদর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা তপন কুমার দেবনাথ জানান, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ইকোপার্কটি নির্মাণ শুরু করে। কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের জুনে। প্রকল্পের বাইরে ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ইকোপার্কের অভ্যন্তরে একটি দ্বিতল বিশ্রামাগার (রেস্ট হাউজ) তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চ, ছায়ার জন্য ছাতা, পুকুরে নৌ-ভ্রমণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বোটানিক্যাল গার্ডেন, বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি ও শিশুদের খেলার জন্য শিশুকর্নার রাখা হয়েছে এ ইকোপার্কে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পার্কটির প্রবেশমুখেই গড়ে তোলা হয়েছে মনোরম ফুলের বাগান। হাঁটার জন্য পাকা সড়ক, পথের পাশে ও বাগানের আশপাশে বসে গল্প করার জন্য বেঞ্চ এবং বিভিন্ন পশুপাখির অবয়বে ডাস্টবিন রয়েছে পার্কজুড়ে। শিশুকর্নারে মেরি গো রাউন্ড, স্লিপার, ঢেঁকি, দোলনা ও ব্যাঙের ছাতাসহ শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পার্কের ভেতরই দর্শনার্থীদের খাওয়া ও নাশতার জন্য রয়েছে একটি রেস্তোরাঁ।

পার্কের শেষ প্রান্তে চিড়িয়াখানার আদলে পশুপাখির আলাদা কর্নার গড়ে তোলা হয়েছে। এতে ময়ূর, বানর, খরগোশ, তিতির, টার্কি ও বনমোরগ, হরিণ, রাজহাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি রাখা হয়েছে। পার্কের মাঝখানে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির আদর্শ বাগান, নার্সারি সেন্টার, বিভিন্ন বনজ, ফলজ, ঔষধি, বিরল ও বিলপ্ত প্রজাতির সমন্বয়ে একটি মিনি বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং সুদৃশ্য ফুলের বাগান রয়েছে।
বিশ্রামাগারের সামনে রয়েছে একটি সুদৃশ্য ফোয়ারা। এর পাশেই একটি পুকুর, যাতে রয়েছে চারটি পাকা ঘাট ও একটি নৌকা। এ নৌকায় একসঙ্গে ২০ জন চড়তে পারবে। এছাড়া পার্কে রয়েছে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
স্থানীয়রা জানায়, পার্কটি এখনো চালু হয়নি। তাই প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো থাকে। তবে প্রধান ফটকে দাঁড়িয়েই এর ভেতরের দৃশ্য দেখা যায়। এ দৃশ্য দেখতেই অনেকে এখানে আসেন। পার্কটি চালু হলে ভালো লোকসমাগম হবে। এতে আশপাশের মানুষেরও আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি হবে।
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্টার লাইন গ্রুপের পরিচালক মাইন উদ্দিন জানান, অর্থনৈতিক দিক থেকে ফেনী অগ্রসরমান একটি জেলা। ১৫ লাখ মানুষের এ জেলায় বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শহরতলির ইকোপার্কটি চালু হলে এ সংকট কেটে যাবে।

সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর কর্মকর্তা এসএম কায়চার দৈনিক স্টার লাইনকে জানান, পার্কটি উদ্বোধনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পার্কে প্রবেশে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। আশা করি, স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি চালু করা যাবে।

 

July 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno