বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০১৯  ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ১৭ সাবান, ১৪৪০ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা আর দুরূহ কাজ নয়

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-০৩-২৭, ১১:৪৪

প্রতিনিধী

ফজলুল হক ভূইয়া রানা: ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। স্বাধীনতার ইতিহাস ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লক্ষ মা-বোনের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাঁথা গণবীরত্বের ইতিহাস। এই মহান দিনে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ সব নেতার স্মৃতির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আন্তরিক সংহতি ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পরিবার-পরিজন এবং বর্বর নৃশংসতার শিকার নারীদের প্রতি।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে উপমহাদেশের জনগণ পেয়েছিল পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বাঙালিদের নতুন করে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখার ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানি হানাদারদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যান ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ’৭০-এর ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করলে শুরু হয় চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ খ্যাত কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন প্রভূত ঘটনা প্রবাহের মধ্য স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সর্বস্তরের জনগণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা বোনের চূড়ান্ত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।
দুর্ভাগা জাতি। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে চলার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় আবারো কালোছায়া নেমে আসে জাতির ভাগ্যাকাশে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা নিয়েও চলে অনেক ষড়যন্ত্র। ইতিহাসের নানা বাঁক ঘুরে অবশেষে আশার আলো ফুটে ওঠে পূর্বাকাশে। জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই জাতি শুধু ঘুরে দাঁড়াবার সাহস পায়নি, দেশ দ্রুতবেগে এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের মহাসড়কে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৪২ বছর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় থাকার পর উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। যে পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেই পাকিস্তানেও এখন বাংলাদেশ বন্দনা চলছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ডন’ এ লেখা এক সম্পাদকীয়তে দেশটির পদার্থবিদ পারভেজ হুদভয় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় উন্নতি এবং এই প্রসঙ্গে তার দেশকে বাংলাদেশের পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। সম্পাদকীয়র শুরুতে বলা হয়েছে- ‘বাংলাদেশ কোনও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্বর্গরাজ্য নয়। দেশটি দরিদ্র এবং জনবহুল, প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ, মাঝে মাঝে সেখানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়।’ সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘দুর্বল গণতান্ত্রিক’ শাসনব্যবস্থা সত্ত্বেও ‘লাইফ সাপোর্টে থাকা দেশ’ -এর অবস্থান থেকে নিজেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এখন তো কোনও কোনও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বাংলাদেশকে এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক পরাশক্তি বলে মনে করেন। গত বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮%, যেখানে ভারতের ছিল ৮% এবং পাকিস্তানের মাত্র ৫.৮%। মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও পাকিস্তানের অর্ধেক। আর বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ পাকিস্তানের চেয়ে চারগুণ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগই রফতানি নির্ভর। যা ১৯৭১ সালে শুন্যের কোঠা থেকে ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছে বছরে সাড়ে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি, যেখানে পাকিস্তানের বাৎসরিক রফতানি আয় আড়াই হাজার কোটি ডলারের কিছু কম।
এমনকি যে বিশ্বব্যাংক একদিন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে অবমূল্যায়নে মেতেছিল, তারাও এখন বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে বিস্মিত। তারাও এখন বলছে, বর্তমান ধারায় থাকলে অবশ্যই ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আরও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। কাজেই বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখতে এখন আর গবেষণা কিংবা কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু কিংবা রাজধানীতে মেট্রোরেলসহ নানা মেগা প্রকল্পের নির্মাণ যজ্ঞ এসব দৃশ্যমান করে দিয়েছে।
এ অবস্থায় সুখী সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা কোনো দুরূহ কাজ নয় বলেই বিশ্বাস করি। এ জন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা যেমন জরুরি, তেমনি দলমত নির্বিশেষে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করাও অপরিহার্য। কেননা, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র ও সামগ্রিক ন্যায়। আমাদের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য থেকে মানুষের মুক্তি ঘটবে। বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও সুখী একটি রাষ্ট্র, যা পরিচালিত হবে আইনের শাসনের ভিত্তিতে। আগামী ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। এর আগের বছর অর্থাৎ আগামী বছর উদযাপিত হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। এ দুইটি উৎসব উদযাপনে এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎসবকে সার্বজনীন করতেও আছে নানা আয়োজন। এটিকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আর সর্বাগ্রে জরুরি জনগণের মধ্যে ঐক্যের বন্ধনকে সুদৃঢ় করা। পাশাপাশি কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উন্নয়ন-অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি। এবারের স্বাধীনতা দিবস হোক সেই শপথ নেয়ার দিন।

 

April 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ