বৃহস্পতিবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ৯ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জুমাদিউল সানি , ১৪৪০ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

প্রতিষ্ঠার ৩ যুগেও জাতীয়করণ হয়নি  দাগনভূঞার একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-০২-১২, ১১:৩৬

প্রতিনিধী

নুর উল্লাহ কায়সার: প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পরও জাতীয়করণ হয়নি উপজেলা পর্যায়ের নারী শিক্ষার একমাত্র বাতিঘর দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলটিতে আসবাবপত্র ও শ্রেনীকক্ষ সংকটও দিনদিন প্রকট হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়দের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। 
জানা যায়, নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ১৯৮৩ সালে স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠে দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কম সময়েই শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারায় উপজেলায় নারী শিক্ষার শীর্ষ পছন্দের স্থান দখল করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১ হাজার ৭শ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ছিলো ৯০% ও এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ছিলো ৮৫%। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা কার্যক্রমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে চলেছেন। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বিদ্যালয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৩ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থী সংকুলান না হওয়ায় ২০১৭ সালে স্কুলের সভাপতির নিজস্ব অর্থায়নে একটি ৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এর আগে শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর সহধর্মীনি নাসরিন আউয়াল সভাপতি থাকাকালে প্রতিষ্ঠানটির জন্য সরকারী অর্থায়নে ২টি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন।  
১৯৯০ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন হাসিনা আক্তার। তিনি বলেন, শুধু উপজেলা পর্যায়ে নয়; ফলাফল, পরিবেশ ও শৃংখলায় বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যেই জেলাজুড়ে আলোচিত। এছাড়াও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদা সজাগ দৃষ্টি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখনো প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে টিকে আছে। মাঝে মধ্যেই স্কুলটি জাতীয়করণ হওয়ার সম্ভাবনার কথা শুনি। কিন্তু এ যাবত কোন সুরাহা হয়নি। তারপরও শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়করনের প্রত্যাশা ও আন্তরিকতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সাথে লেগে আছেন।  
প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, আশপাশের এলাকায় বিদ্যালয়টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় দিনদিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ৪টি ভবন রয়েছে। এরমধ্যে ১টি নিজস্ব তহবিলে তৈরী করা হয়েছে। বাকী ২টি সরকারী ও ১টি তিনতলা ভবন করে দিয়েছেন সভাপতি সাহেব। এরপরও অবকাঠামো ও আসবাবপত্র সমস্যায় আমরা প্রতিনিয়ত হিমসিম খাচ্ছি। তারপরও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন সুনামের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হওয়া এখন সময়ের দাবী। 
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: আবুল বাশার জানান, দেশে এখন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী পর্যন্ত সকল স্থানেই নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। নারী শিক্ষার প্রসারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের তালিকায় ঘোষণা দেবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। প্রতিষ্ঠান ও নারী শিক্ষা নিয়ে আমাদের স্বপ্ন আছে। এর আগেও কয়েকবার প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। এবার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চলছে। আশা করি আমরা ব্যার্থ হবোনা। 
 

February 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ