সোমবার ২৭ মে ২০১৯  ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ রামজান, ১৪৪০ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

নুসরাত হত্যার ২ সপ্তাহ একেএকে মুখ খুলছে জড়িতরা

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-০৪-২৩, ১১:০৬

প্রতিনিধী

বিশেষ প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনার ১৪দিন অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক তৎপরতায় ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে মূল ঘটনা। ইতোমধ্যে ৮ জন আদালতকে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। একইসাথে নৃশংস এ হত্যাকান্ডে তাদের ভূমিকাও স্পষ্ট করেছে আসামীরা। সর্বশেষ আটককৃত মনি ও জাবেদ রবিবার জোবায়ের নামে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও রানা ও মামুন নামের আরো দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পিবিআই। তবে গর্ভে ৫ মাসের সন্তান নিয়ে মনি এ হত্যাকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ হতবাক হয়। এর আগে ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন আলিম পরিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ভবনের ছাদে  ঢেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠজনরা। ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে প্রতিবাদী কন্যা নুসরাত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম জানান, এ ঘটনায় রিমান্ডে থাকা আসামী কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন ও সাইফুর রহমান জোবায়ের সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা জানান, ঘটনার দিন মনি নুসরাতের বুক চেপে ধরে ও জাবেদ নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢালে এবং সাইফুর রহমান জোবায়ের নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়।
পিবিআই জানায়, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এ পর্যন্ত ৮ জন আসামী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এরা হলেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহীম শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও আবদুর রহমান জোবায়ের।

আলোচিত নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকান্ডের আসামী কামরুন্নাহার মনির অনাগত সন্তানের বয়স পাঁচ মাস হতে যাচ্ছে। রাফি হত্যাকা-ে সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে মনি স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তার গর্ভে সন্তানের বয়স পাঁচ মাস বলে জানিয়েছেন। গত শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গর্ভে সন্তান ধারণ করে নৃশংস হত্যাকা-ে মনি জড়িত হওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন।

গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে মনিকে হাজির করে করে পিবিআই। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১০টার দিকে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্রিফ করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল।

তিনি বলেন, রাফি হত্যার কিলিং মিশিনে সরাসরি জড়িত ছিলেন কামরুন্নাহার মনি। তিনি নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন। এর আগে তিনি বোরকার ব্যবস্থা করে দেন। উম্মে সুলতানা পপি রাফির পা বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মনি তাকে শম্পা বলে ডাকেন। এই শম্পা নামটি পপি ও মনির দেওয়া। এই কিলিং মিশনে আর কোনো ছদ্মনাম ব্যবহার হয়নি। মনি আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্বা।
এদিকে এ ঘটনায় ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন নামের আরো দুইজনকে আটক করেছে পিবিআই।
এখন পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ মামলার এজহারভূক্ত ৮ জনসহ মোট ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৮ জন। বিভিন্ন মেয়াদে ১৪ জনকে রিমান্ড দেয়া হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানববন্ধন, মশাল মিছিল, গণস্বাক্ষর, বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছে।

 

May 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ