
বিশেষ প্রতিনিধি, Reporter।।
স্টাফ রিপোর্টার
ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি, ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি প্রশাসন পালন করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পুশব্যাকের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কর্মসূচি পালন করতে না পারায় পরে শহরের আইনজীবী সমিতি মার্কেটের তৃতীয় তলায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি ফেনী জেলা শাখার উপদেষ্টা ও ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন মোর্শেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন, জেলা জামায়াতের আমির ও সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনের সদস্য আনম আবদুর রহিম, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একেএম আবদুর রহিম, জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট সাচ্চু, পৌর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্টের পর এই প্রথম তাদের কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, এ ঘটনায় পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার প্রশাসনিক আচরণের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু ক্ষেত্রে এখনও আগের সময়ের মনোভাব বিদ্যমান রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংগঠনকে নানা দাবিতে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হলেও তাদের কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টিকে তারা দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ভারতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে এবং এসব বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা পুশব্যাক এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানান।
এ বিষয়ে জানতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, এ ধরনের কর্মসূচি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই বন্ধ করার কোন প্রশ্নেই আসে না।