শুক্রবার ১৯ জানুয়ারী ২০১৮  ৫ মাঘ ১৪২৪, ১ জুমাদিউল আউয়াল, ১৪৩৯ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলে মহিষ ও ভেড়া পালন ভাগ্য বদল হচ্ছে সোনাগাজী উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৮-০১-০৩, ১০:০২

অনলাইন ডেস্ক নিউজ


নুর উল্লাহ কায়সার
উপকূলীয় অঞ্চলে অন্যান্য ফসল ফলানো বেশ কঠিন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের নতুন মাটিকে চাষযোগ্য করতে অনেক সময় লাগে। সেখানে অর্থনীতির একটি অন্যতম ভিত্তি হয়ে রয়েছে মহিষ ও ভেড়া পালন। বিপুল পরিমাণ চারণভূমি এসব এলাকার মানুষের জন্য পশু পালনের সুযোগ করে দিয়েছে।
সমূদ্রের উপকূলীয় অঞ্চল ফেনীর সোনাগাজীর চরাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকায় মহিষ ও ভেড়া পুষে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়ন এবং আশপাশের এলাকায় জেগে ওঠা চরগুলো মহিষ ও ভেড়ার চারণ ভূমিতে রূপ নিয়েছে। মহিষ ও ভেড়া খামার গড়ে তোলে দুধ ও বাচ্চা বিক্রি করে এসব এলাকার অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে সমূদ্র উপকূলীয় এ এলাকায় অর্ধশত খামারে ৫ হাজারের বেশি মহিষ ও ভেড়া রয়েছে। তবে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এখানকার খামারীদের।
জানা যায়, সোনাগাজী বাজারের পশ্চিম পাশে ১০ দশমিক ৫০ একর ভূমির ওপর ১৮৯৪ সালে একটি বিদেশী সংস্থা মহিষ খামার গড়ে তোলে। ছোট ফেনী নদী ও বড় ফেনী নদী বেষ্টিত এ এলাকায় প্রায় ৯০ বছর চলে ওই প্রকল্পে মহিষ পালন। পরে ১৯৮৬ সালে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ওই খানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় হাঁস প্রজনন খামার গড়ে ওঠে। কিন্তুু স্থানীয় পর্যায়ে থেকে যায় মহিষ পালনের প্রবণতা। পরে স্থানীয়রা প্রাণী সম্পদ বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে মহিষ পালন শুরু করে। ১৯৮৬ থেকে ২০০৫ সালের শেষ দিক পর্যন্ত চরাঞ্চলের দিনহীন ও নি¤œবিত্ত লোকজন মহিষ চাষ করে সংসার চালাতো। পরে এটি লাভজনক দেখে স্থানীয় বিত্তবান ও প্রভাবশালীরাও  খামার গড়ে তুলতে শুরু করে।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা হয় মোবাশ্বের হোসেন নামের এক ভেড়া ও মহিষ খামারীর সাথে। তিনি জানান, উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে জেগে ওঠা উড়িরচর ও চর আব্দুল্ল¬াহ এলাকায় হাজার হাজার একর চারণভূমি রয়েছে। চারণভূমিতে সারা দিন ঘাস খেয়ে নদীর পানিতে ভেসে থাকে মহিষ ও ভেড়ার পাল। এগুলোকে দেখাশোনা করার জন্য একজন লোক সার্বক্ষণিক সাথে রাখতে হয়। এছাড়া ভেড়া ও মহিষ পালনে তেমন কোন খরচ নেই। সহজ ও লাভ জনক দেখে ক্রমেই বিত্তবান ও প্রভাবশালীরা এ খামার গড়ে তোলার দিকে ঝুকতে থাকে। গত ১০ বছরে অন্তত ৫০-৭০টি খামার গড়ে তোলা হয়েছে এসব এলাকায়। এখন প্রতিদিনই এখানে হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এসব দুধ সোনাগাজী হয়ে চলে যায় ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থানে।
চরাঞ্চল থেকে দুধ সংগ্রহ করে অনেকেই দধি তৈরী করে। আবার কেউ কেউ সোনাগাজী বাজারে এনে কাঁচা দুধ বিক্রি করে থাকেন। প্রতি লিটার দুধ খামারীদের কাছ থেকে ৫০ টাকায় কিনে ৫৫-৬০ টাকায় সোনাগাজী বাজারে বিক্রি হয়।       
খামারী মনির আহাম্মদ জানান, সমূদ্র তীরবর্তী চরাঞ্চলে ভেড়া ও মহিষ পালন করতে তেমন কোন খরচ লাগেনা। এ পশুগুলোর জন্য আলাদা কোন খাবারের দরকার হয়না। এরা চরের মাঝে ঘুরে ঘুরে ঘাষ খেয়েই বেড়ে ওঠে। তবে কখনো কখনো এদের জন্য আলাদ খড়ের ব্যবস্থা রাখতে হয়। তিনি আরও জানান, স্ত্রী ভেড়া এক বছর বয়স পার হওয়ার পর প্রতি ছয়মাস পর পর বাচ্চা দিতে শুরু করে। প্রতি দপায় এরা এক-তিনটি পর্যন্ত বাচ্চা দিয়ে থাকে। খামারীরা জোয়ারের পানি ও শিয়াল-কুকুরের হাত থেকে রক্ষার জন্য নদীর তীরবর্তী উঁচু করে বাঁশের খুঁটির ওপরে মাচান তৈরি করে পশুগুলোকে নজরে রাখে।
অন্য দিকে মহিষ গরুর মতোই বছরে একবার বাচ্চা দেয়। বাচ্চা দেয়ার পর একটি মহিষ ৯-১০ মাস পর্যন্ত দুধ দেয়। ভালো জাতের মহিষ পাঁচ-ছয় কেজি পর্যন্ত দুধ দেয়। খামারিরা প্রতি দিন এসব দুধ দোহন করে কেউ তরল কেউ আবার কেউ দধি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করেন। স্থানীয়দের মাঝে অনেকেই মহিষ ও ভেড়ার খামার দিয়ে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।
 তবে এখানকার খামারিদের অভিযোগ, চারণভূমির সঙ্কট ও বিভিন্ন সময় জলদস্যুদের হামলা, চাঁদাবাজির কারণে ভেড়া ও মহিষ পালনে বাধার সৃষ্টি করেছে। জলদস্যুরা কিছু দিন পর পর এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ট্রলারে করে ভেড়া মহিষ নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে চাঁদার পরিমান বাড়িয়ে দেয়। নির্যাতন শুরু করে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পাদক কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমান জানান, সোনাগাজীর চরাঞ্চলে ভেড়া ও মহিষের খামার গুলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণ করতে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খামারীদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য সব সময়ই মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও সরকার উপকূলীয় অঞ্চলে নাগরিক সেবা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। ওই প্রকল্প শুরু হলে  উপকূলীয় অঞ্চলের উৎপাদক শ্রেনীকে আরও বেশি, দ্রুত ও উন্নত সেবা দেয়া যাবে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি হুমায়ূন কবির জানান, জলদস্যুদের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় সোচ্চার ভূমিকায় রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন জলদস্যুকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। বাকীদের ধরতে পুলিশী টহল অব্যাহত আছে।  

 

January 2018

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ