মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯  ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর, ১৪৪১ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

ফেনীতে জমজমাট আয়োজনে চলছে দুর্গোৎসব

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-১০-০৬, ১১:০১

অথার নাম

বিশেষ প্রতিনিধি: ফেনীর প্রতিটি পূজা মন্ডপে এখন সাজসাজ রব। কোন কোন মন্ডপে চোখ ধাধানো লাইটিং; আবার কোথায়ও কোথায়ও বিলাসবহুল গেইট সবার নজর কাটছে। ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুক্রবার শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার ফেনীর সকল মন্ডপে দেবী দুর্গার বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। আজ রবিবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। সোমবার মহানবমী ও মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে সনাতনধর্মাবলম্বীদের প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব।
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল জানান, ফেনীতে এবার ১৪০টি মন্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৪৫টি, ফেনী পৌর এলাকায় ১১টি, দাগনভূঞায় ১৮টি, সোনাগাজীতে ২২টি, ছাগলনাইয়ায় ৫টি, পরশুরামে ৬টি ও ফুলগাজীতে ৩৩টি মন্ডপ রয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও শহরতলীর বীনা পানি ক্লাবে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এটি জেলার সবচেয়ে ব্যয়বহুল পূজামন্ডপ। এছাড়াও বাঁশপাড়া মন্দিরে ১৫ লাখ, তুলাবাড়িয়া মন্দিরে ১২ লাখ, দ: সহদেবপুর কালী মন্দির, ফেনী জয়কালী মন্দির, সুলতানপুর ও মধুপুর সাহপাড়া মন্দিরে বড় বাজেটে পূজা উদযাপন করা হয়। আর্থিক সংগতি বেধে দুর্গোৎসবে ফেনীর অপরাপর মন্দিরগুলোতে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে এবারের পূজায় ফেনীর মন্ডপগুলোতে অন্তত সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে।   
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজিব খগেশ দত্ত জানান, ইতোমধ্যে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদসহ সকল মন্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষনের জন্য পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ডপে পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পুলিশ-আনসারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল সার্বক্ষণিক মন্ডপে অবস্থান নেবে। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিয়ে প্রতিটি মন্দির এলাকায় সম্প্রীতি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন মান্যগন্য ব্যক্তিদের সদস্য করা হচ্ছে। বড় মন্ডপ গুলোতে সিসি টিভি বসানো হচ্ছে। পুরুষ দর্শনার্থী ও মহিলা দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য পৃথক লেন করা হচ্ছে। এছাড়াও অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন করবেন বলে আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন। আমরা সকল মন্ডপকে রাত ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যেই উৎসব শেষ করতে নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়াও মসজিদে আজান ও নামাজের সময় মাইকসহ সকলপ্রকার ধনিসৃষ্টিকারী যন্ত্রের ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এখন ফেনীর মন্ডপগুলোতে পূজার্চনা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মযজ্ঞ চলছে। মন্ডপগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন। পূজার সার্বিক দেকবালের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম কাজ করছে।

 

October 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ