সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মহাররম, ১৪৪১ Untitled Document

সদ্য সংবাদ

পরশুরামের সেই শিশু তাসলিমার সন্তান জন্মদানের ঘটনায় ভিন্ন মোড় এবার সন্দেহের তীর কথিত পিতা ভন্ড জসিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গের দিকে

Untitled Document
হালনাগাদ :২০১৯-০৯-০৯, ১৬:৩৭

অথার নাম

এম এ হাসান,পরশুরাম: পরশুরামে ধর্ষণের শিকার ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর সন্তান জন্মদানের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ ১ বছরের অধিক সময় জেল খেটেছেন। জন্ম হওয়া শিশুটির সাথে ডিএনএ পরীক্ষায় মিল না হলেও মামলা থেকে এখনো অব্যাহতি পাননি বৃদ্ধ আবুল কাশেম। এদিকে ডিএনএ টেস্টে আবুল কাশেমের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এখন এলাকাবাসী শিশু কন্যা তাসলিমাকে গর্ভজাত করার বিষয়টি নিয়ে তার কথিত বাবা ভন্ডপীর জসিম উদ্দিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গকে সন্দেহ করছেন। মামলায় বৃদ্ধ মোদি দোকানি আবুল কাশেমকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
আবুল কাশেমের দাবি, তাকে ফাঁসাতে ও সামাজিক সম্মান ক্ষুন্ন করতেই প্রতিপক্ষ এ ঘটনায় তাকে জড়িয়ে দিয়েছে। গত আড়াই বছর ধরে আদালতে মামলার হাজিরা দিতে দিতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে আবুল কাশেমের।
জানা যায়, উপজেলার ডাকবাংলো চৌমুড়ীতে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে জসিম উদ্দিন বাবু নামের মাদকাসক্ত এক ব্যক্তি বাসা ভাড়া থাকতেন। পীর’ পরিচয় দিয়ে তিনি সেখানে বেশ কিছু অনুসারী নিয়ে প্রতিদিন আড্ডা বসাতেন। অনুসারীদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব আস্তানা। বিভিন্ন নারীরা তার কাছে এলে তাদের সাথে কোন না কোনভাবে শারীরিক সম্পর্ক করে তাদের নিকট থেকে কৌশলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতেন। সেই ভন্ড জসিম উদ্দিন ১৩ বছরের তাছলিমা আক্তার নামে এক  শিশুকে নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে তার কাছে রেখেছিলেন। এ সময় জসিম অথবা তার সাঙ্গপাঙ্গের লালসার শিকার হয়ে শিশু তাছলিমা গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
ডাকবাংলো চৌমুড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে দোকান দিয়ে মোদি ব্যবসা করে আসছিলেন বৃদ্ধ আবুল কাশেম। জায়গা-জমি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিরোধ ছিল তার। পরিকল্পিতভাবে ঘটনা সাজিয়ে ভন্ড জসিম উদ্দিনের কথিত মেয়ে তাছলিমা আক্তারকে আবুল কাশেম ধর্ষণ করেছে বলে প্রচার করা হয়।
২০১৭ সালের ২৬ মার্চ তাছলিমা আক্তারের কথিত পিতা জসিম উদ্দিন আবুল কাশেমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৮৩। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল কাশেমকে আটক করে পুলিশ। পরে প্রায় ১০মাস (কারাবিধি অনুযায়ী ১ বছর ১ মাস) কারাগারে থাকতে হয় আবুল কাশেমকে।
ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে ২৬ মার্চ ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর শিশুটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায়। শিশুটি ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৮ আগস্ট দুপুরে হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে তার সন্তান জন্ম দেয়। শিশুটির নাম রাখা হয় অপু। সদ্য জন্ম নেয়া নবজাতক শিশু ও মায়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শিশুটির পিতৃ পরিচয় কী? এমন প্রশ্নের উত্তর জানেন না সমাজপতি অথবা রাষ্ট্র।
পরবর্তীতে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভিকটিম তাছলিমা আক্তার, নবজাতক অপু ও অভিযুক্ত আবুল কাশেমের ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী অব বাংলাদেশ পুলিশ (সিআইডি) ঢাকার মালিবাগে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে ৩ জনের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
২০১৮ সালের ১২ মার্চ ৩ জনের ডিএনএ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী অব বাংলাদেশ পুলিশ (সিআইডি)র ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিন। রিপোর্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, আবুল কাশেম মোছা: তাছলিমা আক্তারের গর্ভজাত সন্তান অপুর জৈবিক পিতা নয়।
ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী অব বাংলাদেশ পুলিশ (সিআইডি)র সহকারি প্রধান ডিএনএ পরীক্ষক আহমেদ ফেরদৌস পরশুরাম মডেল থানায় ডিএনএ প্রতিবেদনটি প্রেরণ করলে ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ এসআই তুষ্ট লাল বিশ^াস প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করেন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকেই মামলার বাদী জসিম উদ্দিন ও তার কথিত মেয়ে তাছলিমা আক্তার পলাতক রয়েছেন। গত ২ বছরে আদালতে হাজিরও হননি তারা।
বিবাদী আবুল কাশেমের আইনজীবি শাহজাহান সাজু বলেন, এ মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত। ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আবুল কাশেমকে ফাঁসানো হয়েছে।

 

September 2019

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

সর্বাধিক পঠিত
জেলা সংবাদ
সংশ্লিষ্ট সংবাদ